Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৬ •  9th  year  2nd  issue  May-June  2009 পুরনো সংখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও প্রাসঙ্গিক কথা (১) Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

বিশ্বজোড়া পাঠশালা

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও প্রাসঙ্গিক কথা (১)

জাকিয়া আফরিন

এই মুহূর্তে বিশ্বের যে কোন সংবাদ মাধ্যমে মনোযোগ দিলে অসংখ্য গৃহযুদ্ধের বর্ণনা আপনাকে বিচলিত করতে পারে। বাংলাদেশের পাশের কাশ্মীর অথবা তামিল ইলমের কথাই ধরুন। এদের মধ্যে মিল হল দুই ক্ষেত্রেই সংখ্যালঘু জাতির অধিকার রক্ষার্থে সরকারের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে গেরিলা যোদ্ধারা। অমিল হল - একটি ক্ষেত্রে চুক্তির মাধ্যমে সরকার সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে - অন্য ক্ষেত্রে কথাবার্তার কোন সুযোগ না রেখেই ‘সন্ত্রাস দমনে’র প্রচেষ্টা চলছে। আধুনিক বিশ্বে প্রথম উদ্যোগেরই জয়জয়কার - তাই বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি অন্তত কাগজে কলমে হতে পারে গর্বের বিষয়। মোট জনসংখ্যার মাত্র শতকরা ২ ভাগ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অসহযোগিতা দূর করতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ১৯৯৮ এ যে উদ্যোগ নেয় - তা প্রশংসনীয় হলেও কয়েকবছর পর থেকে যে বিদ্রোহের জন্ম, সামরিক শাসনের শোষণযন্ত্রে তার কন্ঠস্বর চাপা পড়ে ছিল নব্বই দশকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত। গণতন্ত্র মুক্তি পাবার আট বছরের মধ্যে দু’টি ভিন্ন জনপ্রিয় সরকারের আন্তরিকতায় স্বাক্ষরিত হয় শান্তিচুক্তি। এ পর্যন্ত গর্বটুকু রেখে বলতে হয়, আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বিদ্যমান সমভাবাপন্ন চুক্তিগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট হয় ভিন্ন এক চিত্র। সত্যিকার অর্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি একেবারে নখদন্তহীন - এর ক্ষমতা বলতে তেমন কিছু নেই। এশিয়া মহাদেশেরই কয়েকটি চুক্তির সঙ্গে তুলনা করে এর আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে একটা মূল্যায়নই আমার এই লেখনীর উদ্দেশ্য।

মূল আলোচনায় যাবার আগে, একবার পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের বাস্তবতা দেখে নেয়া যাক। পার্বত্য চট্টগ্রাম রয়েছে প্রায় ১৩,১৮৪ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে, দেশের শতকরা দশভাগ জায়গা নিয়ে। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, দক্ষিণে বার্মা (মায়ানমার) এবং পশ্চিমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম। ২০০১ সালের গণনা অনুযায়ী, এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ১.০৬ মিলিয়ন। এখানে রয়েছে ব্যোম, চাক, চাকমা, খুমি, খিয়াং, লুসাই, মারমা, ম্রো, মুরং, পাংখো, রাখাইন, তঞ্চঙ্গা এবং ত্রিপুরা - এই তেরটি আদিবাসী জনপদ। বাঙালিদের চেয়ে দেখতে এরা যেমন আলাদা- ধর্ম, সংস্কৃতি সব দিকেই তাই। আদিবাসীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের চেয়ে ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনে ভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ আইন কিংবা স্বায়ত্ত্বশাসনের ব্যবস্থা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই বিদ্যমান। উল্লেখ্যযোগ্য উদাহরণ হলো - চীনের হংকং ও মাকাও, নিউজিল্যান্ডের কুক আইল্যান্ডস, ভারতের কাশ্মীর, পাপুয়া নিউগিনির বোগেনভিল এবং ইন্দোনেশিয়ার আচেহ। প্রায় সবকটি ক্ষেত্রেই সরকার ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বায়ত্ত্বশাসনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশেও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি তেমনটাই হতে পারত। তবে হয়নি যে, তার জন্য দায়ী বিগত একশ বছরের অসন্তোষ ও অবিশ্বাস।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলার মানচিত্রে প্রথম দেখা যায় ১৫৫০ সালে। মোঘল সাম্রাজ্যকালীন সময়ে এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রাজত্বের প্রথমার্ধ সম্পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের সুযোগ পায় এখানকার অধিবাসীরা। ধীরে ধীরে ইংরেজের অর্থনৈতিক শক্তি রাজনৈতিক আধিপত্যে পরিণত হয় এবং ১৯০০ সালে ‘CHT Manual’ প্রবর্তনের মাধ্যমে পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় শাসনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। তবুও এ সময় বহিরাগতদের সম্পত্তি ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা, আদিবাসী পুলিশ এ সকল সুবিধা বজায় রাখায় পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীরা শান্তির্পূণভাবেই মেনে নিয়েছিল পরিবর্তনগুলো। বলা যায়, ১৯৪৭-এর আগ পর্যন্ত এ অঞ্চলে বিদ্রোহের খবর তেমনটা জানা যায়না। আদিবাসী দলগুলোর দাবী অগ্রাহ্য করে ধর্মভিত্তিক পাকিস্থানের অর্ন্তভুক্ত করা হল পার্বত্য চট্টগ্রামকে। পুরোটা পাকিস্থান আমল পাহাড়ীদের দুঃখ দুর্দশারই কাল। ওয়ার্ন্ড ব্যাংক ও ইউএসএইডের নেয়া কাপ্তাই বাঁধ ও কর্ণফুলী কাগজের কল উদ্বাস্তু করল প্রায় এক লক্ষ মানুষ। অর্ধেকের বেশী মানুষ ঠাই নিল ভারতে। ১৯৬২ সাল নিয়ে এল পাহাড়ীদের জীবনে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। পাকিস্থান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘বিশেষ মার্যাদা’ তুলে নিয়ে উম্মুক্ত করে দিল সকলের জন্য। বাঙালির বসবাসের পাশপাশি রোপিত হল সহিংসতার বীজ।

পাকিস্তান সরকারের দুর্ব্যবহার স্মরণ করেই হয়ত সংখ্যাগরিষ্ঠ পাহাড়ী জনগণ সমর্থন জানিয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে- অংশ নিয়েছে সন্মুখ সমরে। দুঃখজনক হল স্বাধীন বাংলাদেশেই সরকারের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মত অস্ত্র তুলে নেয় বিদ্রোহীরা। ১৯৭২ সালে ১৯০০ সালের ‘CHT Manual’ ফিরিয়ে আনা, স্বায়ত্ত্বশাসন বিষয়ক দাবী দাওয়া, বাঙালীদের বসতি স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা জারির অনুরোধ নিয়ে স্বাধীন দেশে নতুন সরকারের শরণাপন্ন হয় পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ। সে আলোচনার ব্যর্থতার প্রমাণ স্বরূপই যেন এক মাসের ব্যবধানে গঠিত হল বিতর্কিত pcjss - এবং এর সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী। একে বলা যায় ইতিহাসের পরিহাস। বাঙালি জাতিকে নিজ দেশে বসবাসের সৌভাগ্য এনে দিয়ে ‘জাতির জনক’ উপাধি পেলেন যে নেতা, তারই অদূরদর্শিতায় ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার অধিকার আদায়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল নতুন দেশে। রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যাযজ্ঞ, সামরিক বুটের দাপট ও পাহাড়ে বাঙালিদের আধিপত্য বিস্তার - বাংলাদেশের পরবর্তী প্রায় বিশটি বছর সাধারণ মানুষ যেন আরো দূরে সরে গেল বাস্তবতা থেকে। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ‘উপজাতি’দের বাঁশ নৃত্য ও মাঝে মাঝে শান্তিবাহিনীর কুকর্মের দু’একটি খবর ছাড়া পাহড়ের মানুষ, তাদের দাবী দাওয়া হারিয়ে গেল মূলস্রোতের আলোচনার টেবিল থেকে। এমনি ইতিহাস পেছনে ফেলে যখন আলোচনা শুরু হল শান্তি স্থাপনের - সই হলো চুক্তি, খুশিই হবার কথা দু’পক্ষের। প্রথমে হলোও বুঝি তাই। উৎসবের কোলাহল স্তিমিত হয়ে আসলে দেখা গেলো চুক্তির গোড়ায় গলদ। গভীর চিন্তা ভাবনার অভাব অথবা পর্যাপ্ত গবেষণা না করে শান্তির স্বপ্নে বিভোর হওয়াতেই বুঝি চুক্তির ভিত্তি হয়েছে নড়বড়ে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের এমনি সমঝোতার দিকে তাকালেই বিষয় পরিস্কার। সে কথা আগামী’র জন্য তোলা রইল।

 

এপ্রিল ২০, ২০০৯

ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া

`Bangladesh in the 21st Century’ - ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট আয়োজিত সম্মেলনে পঠিত গবেষণার সংক্ষিপ্ত রূপ এই লেখা।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.