Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড  ||  ৯ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৬ •  9th  year  2nd  issue  May-June  2009 পুরনো সংখ্যা
স্পন্দনবি ওপেনহাউজ ২০০৯ Download PDF version
 

উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড

স্পন্দনবি ওপেনহাউজ ২০০৯

ফারহানা আফরোজা কান্তা

সেদিন ছিল ৪ঠা বৈশাখ। কিন্তু তাতে কি হয়েছে? স্যানফ্রান্সসিকোর প্রবাসী বাংলাদেশীরা মেতে উঠেছিলেন বর্ষবরণের আনন্দে। বাংলা নতুন বছর ১৪১৬ কে সামনে রেখে বে’ এরিয়ার অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্পন্দনবি আয়োজন করে তাদের বাৎসরিক ওপেন হাউজ ও ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানের।

বিকেল ৪টা থেকেই লোকজনের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে সানিভেলের ফ্রিমন্ট হাইস্কুল প্রাঙ্গন। প্রথমেই শুরু হয় বৈশাখী মেলা। বিভিন্ন স্টলে দেশী পোশাক, শাড়ি, চুড়ি, কাঠের ও পুতির গয়না নিয়ে আলোকিত হয়েছিল পুরো অডিটোরিয়াম। এছাড়াও ছিল হরেক রকম খাবারের স্টল। শুধু পিঠাই ছিল আট-দশ রকমের। ভাপা, পাটি-সাপ্টা, মুগ পাকন, তেলের পিঠা, ফুল পিঠা, ঝুরি পিঠা, চিতই ও আরো অনেক পদ। এদিকে হালিম, চটপটি, বিরিয়ানী, খিচুড়ি মাংশ, পরটা, লুচি-ছোলার ডাল এসবও ছিল অনেক স্টলে। মেলায় পিঠা প্রতিযোগিতা’য় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হয় মুগ-পাকন পিঠা। আর দেশীয় আবহে সাজানো স্টল, ‘অংকুর’ জিতে নেয় সেরা স্টল সাজের পুরস্কার।

মেলায় ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে বিচিত্র কিছু মানুষের সাথেও দেখা হলো। তিন থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতার এই মানুষেরা কেউ ফকির, চুড়িওয়ালী, ফুলওয়ালী, ফেরিওয়ালা, হাজী সাহেব, গায়ের মেয়ে হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলো। হ্যাঁ, মেলায় যেমন খুশী সাজোর একটি পর্ব ছিলো। ছোট ছোট বাচ্চারা দারুণ সুন্দর এবং অভিনব দেশী পোশাক ও সাজে বাবা-মার হাত ধরে মেলায় এসেছিল। এবারের থীম ছিলো, “একদিন বাঙালি হইলাম রে”। ছোট বড় প্রায় সবাই তাই শাড়ি, সালওয়ার কামিজ, পাঞ্জাবী, ফতুয়া বা দেশী টি-শার্টে সেজে এসেছিলেন। অবশ্য শ্রেষ্ঠ পুরস্কার জিতে নেয় চুড়িওয়ালী আর ঘটক বাবাজী।

মেলার আরেকটি অভিনব আয়োজন ছিল বাচ্চাদের পোস্টার প্রেজেন্টেশন। পাঁচ থেকে দশ এবং এগারো থেকে আঠারো বছর এই দুটি গ্রুপে বাচ্চারা তাদের সদ্য বাংলাদেশ ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা পোস্টারের মাধ্যমে তুলে ধরে। বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি কিন্তু দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের অধিকাংশেরই জন্ম আমেরিকায়। তারা যে মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে বাংলাদেশকে দেখেছে সেটা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। ছোট ছোট হাতে আঁকা ছবি কিংবা ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা সেই সব স্থিরচিত্র আমাদের আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেয় এরা জন্মসূত্রে আমেরিকান হলেও বাংলাদেশকে ভালোবাসে। আর প্রথম প্রজন্ম হিসেবে এটাই কি আমাদের ওদের কাছে সবচেয়ে বড় চাওয়া নয়? পোস্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিশুরা পুরস্কার পেলেও সকল অংশগ্রহণকারী শিশুর জন্য ছিল সার্টিফিকেট। স্পন্দনবি-কে ধন্যবাদ সবাইকে উৎসাহিত করার জন্য।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব ছিলো স্পন্দনবি’র বার্ষিক কার্যকলাপের বর্ণনা ও সাথে মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। প্রথমেই একঝাঁক ক্ষুদে শিল্পী স্টেজে এসে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও পরে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীঁত পরিবেশন করে। ক্ষুদে শিল্পীদের কিন্নর কন্ঠে “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” শুনে নিজের অজ্ঞাতে চোখ ভিজে ওঠে। এরপর একটি চমৎকার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ইকবাল ইউসুফ স্পন্দনবি’র গত এক বছরের বিভিন্ন প্রজেক্টের কথা তুলে ধরেন। এরমধ্যে ইমদাদ-সিতারা খান স্কলারশিপ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ণ ইউনিট, বাঁধন রক্তদানকারী সংস্থা, হরিদাসী নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও আরও অনেক প্রকল্পের কথা উঠে আসে। এছাড়াও মহিউদ্দীন মজুমদার গত এক বছরের ডোনেশন ও খরচের ব্যাপারটাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। একথা অনস্বীকার্য যে, ১৯৮৮ সালে স্থাপনার পর থেকে স্পন্দনবি ও এর সাথে জড়িত সকলে যে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তার অনেকটা সুফলই আমরা দেখেছি তাদের তুলে ধরা স্লাইডের মাধ্যমে। সেই সাথে সাথে রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ডোনেশন। দূর প্রবাসে বসে দেশের জন্য ‘কিছু’ করতে পারার আনন্দও কিন্তু কম নয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জর্জ রেপা ও সিতারা খান। তাঁরা দুজনেই স্পন্দনবি’র সফল পদচারণাকে স্বাগত জানান ও পাশে থাকবার অঙ্গিকার দেন।

এ পর্যন্ত আমার অন্তত স্পন্দনবি’র পাঁচটি বার্ষিক ওপেনহাউজে যাবার সুযোগ হয়েছে। আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি এবারের আয়োজন ছিল সবচেয়ে সুন্দর। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল দ্বিতীয় প্রজন্মের বাঙালি  ছেলেমেয়েদের গীতি আলেখ্য, “মার কাছে শোনা”। দু’টি ছোট শিশু মায়ের কাছে গল্প শোনে কিভাবে ১৯৫২, ১৯৬৯ আর ১৯৭১ পেরিয়ে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হলো। ছোট ছোট শিশুরা গান, নাচ ও অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা দিবস ও মুক্তিযুদ্ধ। নাটকটি যে কত ভালো হয়েছে তা বলে শেষ করা যাবেনা এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এমন সফল একটি গীতি-নাটক মঞ্ঝস্থ করবার জন্য।

স্পন্দনবি’র এবারের অনুষ্ঠানের আরেকটি দিক খুব ভালো লেগেছে, আর তা হলো বাবা-মার পাশাপাশি ছোটদের অংশগ্রহণ। এরা অনেকেই অনুষ্ঠান উপস্থাপনায়, আয়োজনে অংশ নিয়েছে। কেউ কেউ বাংলাদেশে গিয়ে স্পন্দনবি’র প্রকল্পগুলোর খুটিনাটি নিজের চোখে দেখে এসেছে। তাদের সেই বর্ণনা শুনে মনে হয়েছে এরাই তো ভবিষ্যত বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াবে। তাই ক্ষুদে শিল্পীদের সাথে গলা মিলিয়ে আমরাও গাই---

“আমরা করবো জয়-------------“।

মরগান হিল, ক্যালিফোর্নিয়া।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.