Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  শিল্প সংস্কৃতি  ||  ৯ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৬ •  9th  year  2nd  issue  May-June  2009 পুরনো সংখ্যা
টরন্টোতে শিল্পী সৈয়দ ইকবালের ১২তম একক চিত্র প্রদর্শনী Download PDF version
 

 

 

নো পেইন, নো গেইন প্রদর্শনীতে শিল্পী সৈয়দ ইকবালের বড়-ছোট মিলিয়ে প্রায় ৪৫টি ছবি ছিলোগ্যালারির বিশাল চত্ত্বর ছিলো তাঁর পোস্টার ও ব্যানারে সাজানোগত দশ বছর ধরে সৈয়দ ইকবাল তাঁর একক চিত্র প্রদর্শনীর থিমের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের মুখাবয়ব নিয়ে ফটোগ্রাফিতে কিছু কাজ করেনএটার শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালে তাঁর তৃতীয় প্রদর্শনী ঢাকার গ্যালারি ২১-সেখানে থিম ছিল ফ্রম ডার্কনেস টু লাইট- অন্ধকার থেকে আলোর ভুবনে এসোএক মডেলের মুখকে পুরোপুরি (চোখের পাতা পর্যন্ত) কালো রঙ করে তাকে জড়িয়ে ধরে ইকবাল ছবি তুললেনতাঁর দেশ ছাড়ার বছরে, ২০০১ সালে ঢাকার বেঙ্গল ফাইন আর্টস গ্যালারিতে বিশাল প্রদর্শনী করেছিলেন ৫০টি ছবি নিয়ে  নাম ছিলো মাইন্ডস্কেপ, মনোজগতের খেলাপোস্টারের ছবিতে ইকবালের অর্ধনত মুখে, কপালে ছায়া দিয়ে তৈরি পাশার ছক, রাশিচিহ্নএবারের নো পেইন, নো গেইন বড় দেশে উড়ে আসা ইমিগ্র্যান্টদের দুঃখ নিয়েনিজের দেশে অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়া মানুষ এদেশে এসে আবার শূন্যতিলে-তিলে আবার গড়ে তুলতে হয় নতুন ক্যারিয়ারঅনেকে নিজেকে কষ্ট করে গড়ে না তুলে কাঁদতে থাকেন, অভিযোগ করতে থাকেন, সব গেলো! সব গেলো! বলেতাদের জন্যেই সৈয়দ ইকবালের ১২তম একক প্রদর্শনীর থিম- সত্যিকারের কষ্ট করলে এদেশেও ফল পাবে! না করলে নাই! এবারের পোস্টারের ছবিটাও সবার নজর কেড়েছেইকবালের মুখের চামড়ায় টান টান করে লাগানো ক্লিপদেখেই মনে হতে থাকে, ব্যাপারটি খুব কষ্টদায়ক, কিন্তু ছবিতে ইকবালের চোখ হাসছে; এ ছবিটি নিয়ে অনেক বিতর্ক চলেছে যদিও টরন্টো স্টার এর সাংবাদিক ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন ব্যাপারটি কি! প্রদর্শনীতে আসা কানাডার এমপি-মিনিস্টার রব ওলিফ্যান্ট তো বিষয়টি নিয়ে মোহিত! বললেন, এটাই নতুন ইমিগ্র্যান্টদের জন্য কানাডার সবচেয়ে বড় ম্যাসেজ, ঠিকইতো কষ্ট না করলে কোন কিছু অর্জন করা যায় নাতিনি প্রায় দুই ঘন্টা ধরে প্রতিটি ছবি দেখে দেখে, শিল্পীর সঙ্গে আলাপ করে করে বুঝতে চেষ্টা করেছেনএকসময় মজা করে ডিভিডি হাতে নিয়ে তিনি ইকবালের গাল টেনে ধরে বললেন, তুমিও আমার গাল টেনে ধর এবং ছবি তুলি! কথামতো কাজও করলেন

পোস্টার বিতর্কের শেষ নেই, সেদিকে না গিয়ে বরং ইকবালের এবারের ছবি নিয়ে কথা বলিগ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে পৃথিবীর সব সরকারের ঘুমন্ত অবস্থার প্রতিবাদে আঁকা তাঁর টিয়ার্স অব নেচার সিরিজের বড়-ছোট পেইন্টিং এখন ১০০ ছাড়িয়ে গেছেছড়িয়ে পড়েছে তা বিশ্বময়এবারের প্রদর্শনীতে এই সিরিজের কাজ ছিলো মাত্র ৭টিমাইন্ডস্কেপ সিরিজের পনেরোটির মত নতুন ছবি তিনি এঁকেছেন এ বছরেইআঁকার ধরনেও বেশ বদল এসেছেআগে তাঁর মাইন্ডস্কেপ সিরিজের পেইন্টিংস-এ জীবনের প্রতি মুহূর্তের  কাব্য দেখতামতবে ফর্ম কিংবা রঙ সবই ছিলো মাপা-মাপাবেশিরভাগ ছবিতে দর্শক বুঝে যেত শিল্পী পেরুচ্ছেন এক বিষাদ সময়এবারের পনেরোটি কাজে আনন্দের  ঝিলিক যেন বিদ্যুতের মতো চাবুক মেরে যাচ্ছে! ইকবালের প্রিয় রঙ হাল্কা ঘিয়ের জমিনে তীব্র উজ্জ্বল লাল-নীল-কালোর ভীষণ গতিময় ব্রাশ স্ট্রোক! অনেকটা অ্যাকশন পেইন্টিং এর মতোএই রঙের উজ্জ্বলতা আর গতির mgš^q পছন্দ করেছেন অনেকেএমপি ও মিনিস্টার রব ওলিফ্যান্ট, বেশ কয়েকটি পিজা হাটের মালিক বাঙালি ব্যবসায়ী মুনির ¯^cb, বেশ কয়েকটি টিম হর্টনের মালিক টরন্টোর সফল মানুষ ইকবাল রুশদ প্রমুখ ইকবালের এই সিরিজের কাজ কিনেছেন

 

সাউথ এশিয়ান কমিউনিটিতে অর্থাৎ ভারতীয়-পাকিস্তানী কমিউনিটির মধ্যে সৈয়দ ইকবালের ছবির চাহিদা বেশ ভালোটরন্টোর গুজরাটি তরুণ সফল ব্যবসায়ী অতিশ মাথুর আগেও লর্ড গণপতি-এর বড় ছবি কয়েক হাজার ডলারে কিনেছেনএবারো তিনি পছন্দ করেছেন ইকবালের ক্যালিফোর্নিয়া থাকাকালীন স্মৃতিতে আঁকা মেমোরী অব লাগুনা বীচ এর সবচেয়ে বড় ছবিটিএকই সিরিজের ছবি নিয়েছেন টরন্টোর উন্নাসিক আর্ট কালেক্টর আলী খিজালবাস্‌, যিনি টরন্টো থেকে এর আগে কোন সাউথ এশিয়ান পেইন্টারের ছবি পছন্দ করেননি সংগ্রহের জন্য লাগুনা বীচ-২ সংগ্রহ করলেন সাউথ এশিয়ান গ্যালারি অব আর্ট (সাগা) এর ফাউন্ডার আলী আদিল খানলস এ্যাঞ্জেলেস থেকে ৮০ মাইল পশ্চিমে মেক্সিকোর সীমান্তের কাছাকাছি ছোট্ট শহর লাগুনা বীচএর অর্ধেকটা দখল  করে রেখেছেন আমেরিকার নামী-দামী বয়স্ক সব আর্টিস্টরা তাদের বাড়ি ও নিজস্ব গ্যালারি করে; বাকি অর্ধেকটা শহরের মধ্যিখানে টিলার মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো লর্ড কৃষ্ণভক্ত ইসকনের সাদা সদস্যদের দখলে রয়েছেপ্রায়ই পথে খঞ্জনি বাজিয়ে গেরুয়া কাপড়ের টিকিধারী সাদা কৃষ্ণভক্তরা মিছিল বের করে হরে রাধা, হরে কৃষ্ণ ধ্বনি দিয়েশহরটি ইকবালের খুব প্রিয় ছিলোলস এ্যাঞ্জেলস থেকে মাসে দুচারবার যেতেন, থাকতেনকৃষ্ণভক্ত হিসেবে দুবেলার একবেলা ইসকনে তার খাওয়া ফ্রিমাঝে-মাঝে থাকাওধীরে ধীরে নামী আর্টিস্টদের সঙ্গে মিল-মিশও হয়েছিল ভালোতবে এতো নামী আর্টিস্ট থাকায় ইকবালের ছবি কিনবে কে! রঙ কেনারই ডলারের অভাব হতো তখন তারআর্টিস্টদের ন্যুড মডেল হিসেবে কর্মরত বেআইনিভাবে মেক্সিকোতে আসা চব্বিশ বছরের তেরেসা গঞ্জালেস কিন্তু ইকবালকে খুব ভরসা দিতো!  হবে, একদিন হবে! সে একদিন যখন সহসা হয়না, তখন তেরেসাই নিজের মডেলিংয়ের Aí-¯^í কামাই থেকে রঙের টিউব, ব্রাশ আর খাওয়ার বার্গারও কিনে দিতো লাগুনা বীচের বীচে প্রশান্ত মহাসাগর মোটেই শান্ত নয়কি উত্তাল সেই ঢেউ! মাঝে মাঝে সারারাত বীচে বসে কেটেছে ইকবালের! কখনো সারভেসা, কখনো লেবু আর লবনের সঙ্গে টাকিলাসহসঙ্গী তেরেসা বারবার জিজ্ঞেস করে গেছে, তুমি কাঁদো কেন? চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তো!

ইকবাল বেশিরভাগই চুপ থাকতেনহয়তো দুই-একবার ভুলে বলে ফেলেছেন, আমার চার বছরের মেয়ে অগ্নিলার মুখ খুব মনে পড়ছে! গাঢ় নীল, সঙ্গে রাতকালো অন্ধকার ব্রাশ স্ট্রোক, সমুদ্রের ঢেউয়ের মেজাজ-খারাপ আচরণ, মানব-মানবীর উল্টে-পাল্টে যাওয়া জীবন! সব যেন কাব্য হয়ে উঠে এসেছে সৈয়দ ইকবালের ২০০৮ সালে আঁকা মেমোরী অব লাগুনা বীচ সিরিজে

নারী জীবন নিয়ে আঁকা ইভ এর বেশ কিছু ছবিও ছিলো  এক বিশাল গ্যালারি রুম ভর্তি ছিলো হিন্দু পুরাণের ওপর ভিত্তি করে আঁকা লর্ড গণপতি, লর্ড কৃষ্ণ, রাধা কৃষ্ণ, জয়মাতাকালী, ব্লু এ্যাঞ্জেল, মহামায়া ডোন্ট স্লিপ নাউবাংলাদেশী ব্যারিস্টার পল্টু কুমার সিকদার লর্ড গণপতির বড় ছবিটি (পাঁচ ফুট বাই তিন ফুট) সংগ্রহ করেনহিন্দুপুরাণ ও দেবদেবীর প্রতি টানের ব্যাপারে তিনি ঢাকায় এক প্রদর্শনীর শেষে ইকবালকে বলেছিলেনআমাদের রুট-শিকড়ই টেনে নিয়ে যায়চাইনিজ কিংবা ইজিপশিয়ান, গ্রীক পুরাণতো আমাদের জন্য দূরের পথ ইকবাল বলেলন, আমি যে মাটিতে জন্মেছি, যে বাতাস বুক ভরে টেনেছি তারই কথাতো আঁকবোতাছাড়া কোথায় পাবো প্রভু কৃষ্ণের মত অবতার যিনি প্রেমিকদের দেখভাল করেন

প্রশ্নঃ শিল্পী সৈয়দ ইকবাল এবং কথাশিল্পী সৈয়দ ইকবালের মধ্যে পার্থক্য কী? দ্বৈতসত্ত্বাকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

উত্তরঃ ভালো কথা মনে করিয়েছেন দুলালআসলে যখন ছবি আঁকি তখন মনেই থাকেনা আমি একজন লেখকওআবার যখন উপন্যাস লিখতে মগ্ন থাকি, তখন মনেও থাকেনা ছবি আঁকার ব্যাপারআসলে কি জানেন! ভেতরের অনুভূতি-উপলব্ধিটাই বড়সেটাকে আপনি কোন ফর্মে বের করে সবাইকে দেখাবেন সেটা আপনার ব্যাপারযেমন একজন কবি কবিতায় নিজের কথা বলেন, গায়ক গানে বলেন, তেমনি! মূল্যায়নের চেয়ে কাজ করিযখন যেটা পাই মন ডুবিয়ে করি

প্রশ্নঃ আপনার চিত্র প্রদর্শনীর যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিলো? সদ্য সমাপ্ত ১২তম প্রদর্শনী পর্যন্ত এসে নিজের কী পরিবর্তন লক্ষ্য করলেন?

উত্তরঃ সৈয়দ ইকবাল হিসেবে সবাই চিনতো বইয়ের প্রচ্ছদ শিল্পীজাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের দুইবার পুরস্কার পেয়েছি এ ব্যাপারেঅসংখ্য ছোটদের বইয়ের ইলাস্ট্রেশন করতামকার্টুন আঁকতামপেইন্টিংস করতে কেমন যেন দ্বিধা লাগতোযেন ও আমার ব্যাপার না, এরকম মনে হতো১৯৯৪ সালের অক্টোবরে আমরা ইমিগ্রেশন নিয়ে কানাডায় আসিতখনই আমার স্ত্রী সাহানা ইকবাল ভীষণভাবে চেপে ধরলেন যাওয়ার আগে একটি সলো পেইন্টিংস এক্সিবিশন করে যেতেএমনকি ভয় দেখালেন, যেহেতু আমি আর্টিস্ট ক্যাটাগরীতে ইমিগ্রেশন পেয়েছি, প্রদর্শনী না থাকলে কানাডায় ঢুকতে দেবে নাআমি সরলভাবে বিশ্বাসও করেছিলামহয়তো তাই! রাতভর ছবি আঁকা, মনো প্রিন্ট করা আর দিনে ঢাকায় গ্যালারি খোঁজাহঠাৎ করে কোনো গ্যালারি খালি পাবো! শেষ পর্যন্ত সেন্ট্রাল রোডের ভেতরে তরুণ আর্কিটেক্ট বন্ধু ইনামুল হক নির্ঝর বললো, চিন্তার কিছু নাই ইকবাল ভাই আমার গ্যালারি যোজন এ দেখি কি করা যায়শেষ পর্যন্ত আমার জন্যে এখনকার নামী শিল্পী নাজিব তারেক তার প্রদর্শনী পিছিয়ে জায়গা করে দিলোআমার প্রথম প্রদর্শনী হলো  ১৯৯৪ সালের †m‡Þ¤^i-G| প্রধান অতিথি ছিলেন তখনকার বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর পীয়েরে লেন্ডেল মিলসচারটি ছবি কিনেছিলেন তিনি যা এখন ওয়াশিংটন ডিসিতে আছে তাঁর সংগ্রহেবিশেষ অতিথি অধ্যাপক আবু সায়ীদ, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুন নবীতখন থেকেই থিমেটিক ছবির সিরিজ আঁকা শুরুউজ্জ্বল রঙের এক বড় পেইন্টিং ছিলো যাজমেন্ট ডেএকই নামে ছোট কিছু ছবিও ছিলোযে সিরিজের নয়টি ছবি প্রদর্শনীর প্রথম দিনেই বিক্রি হয়ে যায় তার নাম মর্নিং অব ফিফটিন আগস্ট, বঙ্গবন্ধুর হত্যার দিনের সকালএকটি পাইপের পতন, একটি কালো মোটা ফ্রেমের চশমার পতন, এক বিষাদ, ঘোলাটে দুঃখে ভারাক্রান্ত ছবির জমিনসেই সকালে আমি ৩২ b¤^i ধানমন্ডিতে গিয়ে ধরা পড়েছিলামকর্নেল জামিলের ৬৯ মডেল টয়োটা করোনা থেকে অর্ধেক বেরিয়ে থাকা লাশ দেখেছিভাগ্যক্রমে তারা বুটের লাথিতে আমার সামনের মাত্র দুটি দাঁত ভেঙে ধানমন্ডি লেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়

প্রথম প্রদর্শনীর সাফল্য ও মিডিয়া সাপোর্টে খুবই উৎসাহ পাইএমন কোন বাংলা-ইংরেজি দৈনিক-সাপ্তাহিকী ছিলো না যাতে আলোচনা হয়নি আমার প্রথম প্রদর্শনীর ছবির বিষয়  হয়তো সেই উৎসাহে কানাডার মতো এক বিশাল দেশে এসে দমে যাইনিতার পরের বছরই ১৯৯৫ সালে মন্ট্রিয়লের লাভাল শেরাটন হোটেল গ্যালারিতে দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী করিআমাকে এভাবে বড় ছবি আঁকার দিকে ঠেলে দেয়ার জন্যে আমার স্ত্রী সাহানার কাছে আমি কৃতজ্ঞ

প্রশ্নঃ ¯^‡`k এবং প্রবাস জীবনের সরলতা এবং জটিলতাকে আপনি কীভাবে উপস্থাপন করেছেন?

উত্তরঃ করতে হয় না! হয়ে যায়লেখায় গল্প-উপন্যাসে চরিত্র তৈরির মাধ্যমে, বর্ণনার মাধ্যমেআমার লেখার ধরনের মাধ্যমেছবিতে আসে রঙ আর ফর্মের মাধ্যমে!

প্রশ্নঃ আপনার চিত্রকর্ম কবিতার মতো বহুমাত্রিক এবং ব্যাঞ্জনাময় নামকরণেও কাব্যময়তা থাকে যেমন, Ôশেক্সপীয়ারের সঙ্গে সাদা পরী  wKম্বা Ôবুদ্ধের আত্মা অথবা Ô¯^‡cœ কেন আসো হো চি মিন ইত্যাদি আত্মা, স্মৃতি, ¯^‡cœ দেখার বিষয়গুলো বাস্তব, অবাস্তব আর পরাবাস্তবের সংমিশ্র তাই নয় কি?

উত্তরঃ অবশ্যই! মানুষের জীবনে বাস্তবের চেয়ে বেশি অবাস্তব ও পরাবাস্তবের প্রভাব থাকেশিক্ষিত মানুষেরা তা বুঝতে পারে নাশুধু জাগতিক জিনিস নিয়ে খাই-খাইয়ে মত্ত থাকেআমার মতো অশিক্ষিত মানুষ কিছু কিছু বুঝে অল্প কিছু করতে চেষ্টা করিআমার চেয়ে বড় বড় সম্মানিত অশিক্ষিত মূর্খজন আরো বড় বড় কাজ করে গেছেন এ বিষয়ে

প্রশ্নঃ সত্তর দশকে আপনার যে যাত্রা, দীর্ঘ পরিক্রমায় কোন বিষয়টি আপনার ক্যানভাসে প্রাধান্য পায়?

উত্তরঃ জীবনের অভিজ্ঞতামানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ধাক্কা-ধাক্কিকালের পতনসময়ের আলোচিত উত্থান! তবে আমার মত নগণ্য ক্ষমতার মানুষ কতটুকুই বা এই অভিজ্ঞতাকে ধরে রাখতে পারিপ্রত্যেক মানুষের জীবন অভিজ্ঞতাই চরম মধুর, চরম কঠিনতবে কজনে তা নিজের কাজে ধরে রাখতে পারেসবাইতো আর রবীন্দ্রনাথের  মত তিনটে মগজ নিয়ে জন্মায় না! এই সাদা দাড়ির লোকটির মাথা ফাটিয়ে দেখতে ইচ্ছে করে কিভাবে এক জীবনে এত কিছু দিয়ে চলে গেলেন

প্রশ্নঃ কোন মাধ্যমে আপনি ¯^v”Q›`¨ বোধ করেন এবং কেন?

উত্তরঃ আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলেছি, যখন যেটা করি স্বচ্ছন্দে করি! ছন্দের সঙ্গে করিছন্দ না থাকলে যেমন কবিতার প্রাণ মরে যায় তেমনি সব ক্রিয়েটিভ কাজের প্রাণ থাকে নাতবে কাজটি যদি আপনার পছন্দের হয় আর আপনি করতে পারেন, তাহলে টর্ণেডো গতিতে চলবে সব কিছু

প্রশ্নঃ আপনি আপনার চিত্রকর্মের মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্বও পালন করছেন, কিভাবে তা ব্যাখ্যা করবেন?

উত্তরঃ মনে হয় না কোন দায়িত্ব পালন করার কথা ভেবে কিছু করিসামাজিক দায়িত্বতো অনেক বড় ব্যাপার, সংসারের দায়িত্বই ঠিকমতো পালন করতে পারি না বলে স্ত্রীর মিসাইল আক্রমণে জর্জরিত

প্রশ্নঃ আধুনিক শিল্পকর্মে যে বিবর্তন ঘটেছে, সেই বিবর্তনের সাথে আপনি কতটা সম্পৃক্ত?

উত্তরঃ যতটা আমার পক্ষে সম্ভব হয়, আমার ক্ষমতায় কুলায়তা না হলে তো শিল্পীর বেঁচে থাকা বলা যায় নারঙ নিয়ে খেলাধুলা করেন কিন্তু সে জিন্দালাশবেঁচে আছেন কি না টের পাবেন যে কোন দেশের কোন মানুষকে আপনার শিল্পকর্ম টানছে! তখনি বুঝবেন ইউ আর এ্যালাইভ এবং বিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছেন

প্রশ্নঃ আপনার শিল্পকর্মের উপর আঘাত হানা হয়েছে কেন?

উত্তরঃ ধর্ম মানা, ধার্মিক হওয়া একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারঅতিমাত্রায় চিনি দিলে যেমন চা-কফি পানের উপযুক্ত থাকে না, অতিরিক্ত লবনে তরকারি নষ্ট হয়ে যায়, মুখে দিলে মনে হয়, উফ্‌ একি নুনের জহর! মানে বিষতেমনি ধর্ম বা ধার্মিকতা বেশি দেখাতে গেলেও মগজ নষ্ট হয়ে যায়টরন্টোর বাংলা টাউন ড্যানফোর্থে আমার যে ইন-ডিজাইন নামের গ্রাফিক এন্ড প্রিন্টিং অফিস ছিলো তার লবিতে আমি ইভ সিরিজের কিছু ছবি টাঙিয়েছিলামএক দুপুরে দেখি ছবিগুলোর বিশেষ জায়গা সিগারেট লাইটার দিয়ে পোড়ানো হয়েছেকিছু জায়গা ধারালো ছুরি দিয়ে  নষ্ট করা হয়েছেসম্ভবত আপনিও দেখেছেনকারণ কোন ভালগার বিষয়ের জন্য নয়, নারীর বুকে কাপড় নেই বলেএরা ভালগার, আর নুডিটি কিম্বা আর্ট কিছুই বোঝে নাএদের প্যারিসের ল্যুভে ঢুকিয়ে দিলে বিশাল এই মিউজিয়ামের অর্ধেকটাই পুড়িয়ে কিংবা খুঁচিয়ে নষ্ট করে ফেলবে

প্রশ্নঃ আপনি কি কারো দ্বারা প্রভাবিত?

উত্তরঃ সম্ভবত প্রভাবিত কি না বলছেন? তা যদি হয় বলবো যুবক বেলা থেকে মার্ক সেগাল ভীষণ ভালো লাগতোতাঁর আঁকার প্রভাব এখনো রয়েছেনর্থ আমেরিকার কিছু আর্ট ক্রিটিক বলেছেন, বিশেষ করে মন্ট্রিয়লেরআর্ট এন্ড অপশন এর সম্পাদক রবার্ট লুইজ, আর্ট ক্রিটিক, তিনি আমার ছবি খুবই পছন্দ করেনওনার জন্যেই মন্ট্রিয়লের নামী গ্যালারি সেরাইন এর পার্মানেন্ট আর্টিস্ট হতে পেরেছিলাম ২০০১ সালেঅনেক ছবি তার দ্বারা কুইবেকে মানুষের সংগ্রহে গেছেতিনি বলতেন, ইকবালের ছবির বিষয় আলাদা, রঙ তীব্র তবু আঁকার টান মাঝে-মধ্যে মার্ক সেগালকে মনে করিয়ে দেয়গত পনেরো-বিশ বছর হবে যখন থেকে মাদ্রিদ প্রবাসী মুনিরুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে, তাঁর আঁকারও প্রভাব রয়েছেবিশেষ করে তার স্পেস আঁকা রেখে গিমিক তৈরি করার ব্যাপারটি

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের চিত্রকরদের শিল্পকর্মকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

উত্তরঃ প্রথমত মূল্যায়ন করার মত আমি কেউ নই! আমার ভালো-খারাপ লাগার ব্যাপার থাকতে পারেতবে বাংলাদেশে পেইন্টিংস, প্রিন্ট আর ফটোগ্রাফি আজকাল বিশ্বের ভালো সব প্রদর্শনী, আর্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দেয়ায়  গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেসে তুলনায় শিল্পের অন্যান্য শাখা খুবই শিশুসুলভতবে এর মধ্যে সিনেমাকে ধরিনিসিনেমায় তবু মাঝে-মধ্যে আলোর ঝিলিক দেখা যায়! যেমন তিরিশের উপরে বয়স হওয়া  টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই দুবছর হয় প্রথম সুযোগ পেলো গোলাম রাব্বানী বিপ্লবের স্বপ্নডানায় | তারেক মাসুদ, তানভীর মোকাম্মেলসহ একঝাঁক তরুণ বিশ্বময় নিজের কাজ করে যাচ্ছেন
 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.